পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার অবনতির পর তাকে চিকিৎসাজনিত কারণে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান গত প্রায় তিন বছর ধরে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী রয়েছেন। তার পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাকে আত্মীয়স্বজন ও আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। সাম্প্রতিক সময়ে চোখের অস্ত্রোপচারের পর তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে বলেও তারা দাবি করেছেন।
ইমরানের দুই ছেলে সুলাইমান খান ও কাসিম খান এক বিবৃতিতে বলেন, তাদের বাবাকে দীর্ঘদিন ধরে বাইরের পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে তার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দ জুলফি বুখারিও চিকিৎসাজনিত কারণে তাকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে ইমরান খানের ক্ষেত্রে দেশত্যাগ, রাজনীতি থেকে দূরে থাকা এবং প্রকাশ্যে নীরব থাকার মতো শর্ত আরোপ করা হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইমরান খান আপসহীন রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য পরিচিত হওয়ায় তিনি এমন শর্ত সহজে মেনে নাও নিতে পারেন।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হন ইমরান খান। এরপর থেকে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং তিনি কারাবন্দী রয়েছেন।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী এসব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, ইমরান খানের মামলাগুলোর নিষ্পত্তি আদালতের মাধ্যমেই হবে এবং চিকিৎসাজনিত কারণে তাকে জামিন দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
দ্রষ্টব্য: ইমরান খানকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য বিভিন্ন সূত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবির ভিত্তিতে প্রকাশিত।
স্টাফ রিপোর্টার